আউটসোর্সিং কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তাসহ ৩০ হাজার টাকা বেতন দাবি

বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আউটসোর্সিং সেবাকর্মীরা চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আন্দোলনে নামে। ফাইল ছবি। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তাসহ ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবি করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। এসব কর্মীদের জন্য সম্প্রতি ঘোষিত নীতিমালায় দৈনিক মজুরিতে নিয়োগ প্রাপ্তদের উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা এবং ৩০ কর্মদিবসের হাজিরা প্রদানকে যুক্ত করা এবং দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের বিনা কারণে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া ছাঁটাই না করার দাবি তুলে ধরেন তিনি। শনিবার ‘সরকার কর্তৃক ঘোষিত আউটসোর্সিং নীতিমালা ও দৈনিকভিত্তিক সাময়িক কর্মচারী নীতিমালা ২০২৫’ সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি করেন। বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তা না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারির আসে নেতাদের কাছ থেকে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষে আউটসোর্সিং সেবা কর্মীদের জন্য ১৫ এপ্রিল ‘সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫’ জারি করে সরকার। সরকারপ্রধানের দপ্তর থেকে বলা হয়, এই নীতিমালা প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে নববর্ষের বিশেষ উপহার। নতুন এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হল—আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দক্ষ, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে সেবা কর্মীদের উৎসাহিত করা। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি বলেন, “চাকরির বয়সসীমা ৬০ বছর নির্ধারণ ও বয়স শিথিল করে প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের আত্মীয়করণ করতে হবে। চাকরির নিশ্চয়তার বিধানসহ ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করতে হবে ও পেনশনের আওতায় নিয়ে এসে জিপি ফান্ডের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে আত্মীয়করণ করতে হবে।” বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ আয়োজিত শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সরকারি অফিসে জনবল নিয়োগের ‘প্রক্রিয়াটি অমানবিক ও অন্যায্য’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “একই প্রতিষ্ঠানে দুই ধরণের নিয়োগ প্রথা চলতে পারে না।” এ সময় তিনি বর্তমান সময়ের সংকট তুলে ধরে বলেন, “আউটসোর্সিং মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন পাচ্ছেন না, অতিদ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদার/প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যাদেরকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে অবিলম্বে চাকুরিচ্যুতদের চাকুরিতে পুর্নবহাল করতে হবে। চাকুরি পুর্নবহাল ও বকেয়া বেতনের পরিশোধের লক্ষ্যে উচ্চ আদালতের রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন করতে সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ করার আহ্বান করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মাহবুবুর রহমান আনিস বিভিন্ন সরকারি অফিসের আউটসোর্সিং, দৈনিক মজুরিভিত্তিক ও বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়াদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানান। আউটসোর্সিং সেবা কর্মীদের জন্য ‘সেবা গ্রহণ নীতিমালা’ তা না হলে তিনি দাবি আদায়ে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ করাদের নামে খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দিয়ে সরাসরি কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন দেওয়ার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক নুর, সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমানসহ অন্য নেতারা। তাদের দাবিগুলো হল
এমপিওভুক্ত এক লাখ শিক্ষক নিয়োগে আবেদন শুরু ২২ জুন

নারী কোটা থাকছে না; আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০০ টাকা। এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে শূন্য থাকা এক লাখ ৮২২টি শিক্ষক নিয়োগে আগামী ২২ জুন থেকে আবেদন করা যাবে। অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধনের সুপারিশ পাওয়া আগ্রহীরা ১০ জুলাই পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ পাবেন; বয়সসীমা দেওয়া হয়েছে ৩৫ বছর। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত একযোগে রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের আবেদনের এ সময়সীমা ঠিক করে গণবিজ্ঞপ্তি চূড়ান্ত করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএ। মঙ্গলবার এ গণবিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ হবে বলে জানিয়েছেন এনটিআরসিএর শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান শাখার উপপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুর রহিম খোন্দকার। সোমবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “সোমবার আমরা গণবিজ্ঞপ্তিটি চূড়ান্ত করে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের জন্য তিনটি সংবাদপত্র অফিসে পাঠিয়ে দিয়েছি। আগামী ২২ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত প্রার্থীরা এ গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন করার সুযোগ পাবেন।” এনটিআরসিএর পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তির কপি সোমবার অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও পাঠানো হয়েছে। এই এক লাখ ৮২২ টি শূন্য পদের মধ্যে বেসরকারি স্কুল ও কলেজের ৪৬ হাজার ২১১টি, মাদ্রাসার ৫৩ হাজার ৫০১টি এবং কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ১১০টি রয়েছে, যার সবগুলোই এমপিওভুক্ত বা সরকারি অংশের বেতনভাতা প্রাপ্য। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের (http://ngi.teletalk.com.bd) মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০০ টাকা। শিক্ষক হতে নিবন্ধিত একজন প্রার্থী এক আবেদনের মাধ্যমে আলাদা আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ৪০টি শূন্যপদে পছন্দ দিতে পারবেন। পছন্দের ৪০টি প্রতিষ্ঠানে সুযোগ না পেলে মেধারভিত্তিতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ চান কি না সে বিষয়েও মতামত দিতে পারবেন। এ নিয়োগে নারী কোটা থাকবে না বলেও তুলে ধরা হয়েছে গণবিজ্ঞপ্তিতে। আগে শহরাঞ্চলের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট শিক্ষক পদের ৪০ শতাংশ এবং মফস্বল অঞ্চলের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট শিক্ষক পদের ২০ শতাংশ পদে নারী প্রার্থী নিয়োগ বাধ্যতামূলক ছিল, যা ‘মহিলা কোটা’ নামে পরিচিত ছিল। গত ১৫ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ নারী প্রার্থীদের জন্য আসন সংরক্ষণের এ বিধান বাতিল ঘোষণা করে। রেকর্ড সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের আবেদনের এ বিজ্ঞপ্তিকে ‘ষষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যেটির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত সর্বাধিক শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করার সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা। দেশে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০ হাজার ৮২৬। এরমধ্যে স্কুল ১৭ হাজার ৬৩৪টি, কলেজ ২ হাজার ৮৬৮টি, মাদ্রাসা ৮ হাজার ২২৯টি এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২ হাজার ২২২টি। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক ও প্রভাষক বা সমপর্যায়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্ব এনটিআরসিএ এর। এনটিআরসিএ এ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীর বয়স ২০২৫ সালের ৪ জুন ৩৫ বছর বা এর কম হতে হবে এবং নিবন্ধন সনদের মেয়াদ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের তারিখ থেকে তিন বছরের মধ্যে হতে হবে। ২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দিচ্ছে। তবে শুরুর ১০ বছর শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ছিল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির হাতে। পরে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সরকার এনটিআরসিএকে সনদ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের ক্ষমতাও দেয়। এরপর পাঁচটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯৮ জন শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে এনটিআরসিএ। এর আগে গত বছরের ৩১ মার্চ ৯৬ হাজার ৭৩৬টি শিক্ষক শূন্যপদের নিয়োগে পঞ্চম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল এনটিআরসিএ। যদিও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত নিয়োগ পেয়েছিলেন ১৯ হাজার ৫৮৬ প্রার্থী জন নিবন্ধিত প্রার্থী। গণবিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে।
সরকারি চাকরির সংশোধিত অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ

নতুন সংশোধিত অধ্যাদেশে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্ট অসন্তোষ ও বিতর্ক কাটিয়ে উঠে সরকার ‘অনানুগত্য’ শব্দটি বাদ দিয়ে নতুন করে গেজেট প্রকাশ করেছে। বুধবার রাতে জারি করা হয়েছে ‘সরকারি চাকরি (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’, যা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। আগের অধ্যাদেশে সরকারের ‘বৈধ আদেশ’ অমান্য করাকে ‘অনানুগত্যের অপরাধ’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। এবার সেই অস্পষ্ট ও বিতর্কিত শব্দটি সরিয়ে এটিকে ‘সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। নতুন অধ্যাদেশের ৩৭ক ধারায় ‘সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও দণ্ড সংক্রান্ত বিশেষ বিধান’ হিসাবে তিন ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধ উল্লেখ করা হয়েছে: (ক) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করা বা আইনসম্মত কারণ ছাড়া সরকারের কোনো আদেশ, পরিপত্র বা নির্দেশ অমান্য করা বা এর বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করা বা অন্য কর্মচারীকে এমন কাজে প্ররোচিত করা; (খ) ছুটি বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া সমবেতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখা; (গ) কোনো সরকারি কর্মচারীকে তার কর্মস্থলে উপস্থিত হতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধা দেওয়া। এ ধরনের আচরণকে ‘সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ’ হিসাবে গণ্য করা হবে এবং এর বিরুদ্ধে নিম্নপদে অবনমন, বাধ্যতামূলক অবসর বা চাকরি থেকে বরখাস্তের মতো শাস্তি দেওয়া যাবে। পূর্বের অধ্যাদেশে যে ধারায় বলা হয়েছিল যে, কোনো কর্মচারী যদি এমন কাজ করেন যা অন্যদের মধ্যে ‘অনানুগত্য’ সৃষ্টি করে বা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা কর্তব্য পালনে বাধা সৃষ্টি করে, সেই ধারাটি এবার সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন অধ্যাদেশে তদন্ত কমিটি গঠনের বিধানও পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হতো, কিন্তু এখন তিন সদস্যের কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিটিতে অন্তত একজন নারী সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত কর্মচারীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে আগের অধ্যাদেশে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধান ছিল, যা নতুন অধ্যাদেশে রাখা হয়নি। এই সংশোধনের পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা যায়, ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদ সরকারি চাকরি আইনের সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে জারির প্রস্তাব অনুমোদন করে। কিন্তু এর বিরুদ্ধে ২৪ মে থেকে সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভ শুরু হয়। তাদের আন্দোলনের মধ্যেই ২৫ মে রাতে সরকার প্রথম অধ্যাদেশটি জারি করে। সেই অধ্যাদেশে ‘৩৭ক’ ধারা যুক্ত করে বলা হয়, কোনো কর্মকর্তা যদি অনানুগত্য সৃষ্টি করেন বা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন বা কর্তব্য পালনে বাধা দেন, তবে সাত দিনের নোটিস দিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এটিকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে কর্মকর্তারা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন চালান। এ পরিস্থিতিতে ৪ জুন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিটি আন্দোলনকারী কর্মচারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে অধ্যাদেশটি সংশোধনের সুপারিশ করে। অবশেষে ৩ জুলাই উপদেষ্টা পরিষদ এই সংশোধিত অধ্যাদেশটি আনুমদন করে এবং এখন তা আনুমদিত হিসাবে অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়েছে।








