২০শে এপ্রিল, ২০২৬, ৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩

ইসলামি এনজিওগুলোকে সামাজিক ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন মুসলিম দেশের এনজিওর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস। ছবিটি প্রধান উপদেষ্টার ফেইসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত। “আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে গরিবদের সহায়তার একটি উপায় হিসেবে দেখেছি,” বলেন তিনি। মুসলিম বিশ্বে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে ইসলামি ধারার বেসরকারি সংস্থা-এনজিওগুলোকে আরও বেশি সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। বাসস লিখেছে, রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিভিন্ন মুসলিম দেশের এনজিওর একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের বিশ্বে আমরা নারীদের স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দিই। যদি আপনি গরিব হন, তাহলে আপনার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সমস্যা থাকবে। আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে গরিবদের সহায়তার একটি উপায় হিসেবে দেখেছি। “সামাজিক ব্যবসা এই সহায়তা প্রদানের একটি ভালো উপায়।” সারা বিশ্বের তরুণদের সামাজিক ব্যবসায় যুক্ত হয়ে উদ্যোক্তা হতে উৎসাহ দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। এনজিও নেতারা বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুহাম্মদ ইউনূস পরিচালিত সামাজিক ব্যবসার প্রচারণা তাদের নিজ নিজ দেশে একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণে অনুপ্রাণিত করেছে। সাক্ষাৎকালে বিদেশি প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—তুরস্ক থেকে ইসলামি বিশ্বের এনজিও ইউনিয়নের (ইউএনআইডব্লিউ) মহাসচিব আইয়ুপ আকবাল, টার্কিশ আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন (এটিএএ) এর প্রতিনিধি মুহাম্মদ হুসেইন আক্তা, মালয়েশিয়া থেকে পারসাতুয়ান ওয়াদাহ পেন্সারদাসান উম্মাহ (ডব্লিউএডিএএইচ) এবং ইউএনআইডব্লিউর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ফাওয়াজ বিন হাসবুল্লাহ, পাকিস্তান থেকে আল খিদমাত ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও ইউএনআইডব্লিউর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুস শাকুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ইউএনআইডব্লিউর অডিটিং বোর্ড সদস্য সালামুন বাসরি। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও বিআইআইটির সভাপতি অধ্যাপক মাহবুব আহমেদ, এসএডব্লিউএবির চেয়ারম্যান ও ইউএনআইডব্লিউর হাই অ্যাডভাইজরি বোর্ডের সদস্য এস এম রাশেদুজ্জামান, ইউএনআইডব্লিউর কাউন্সিল সদস্য ও কৃষিবিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী আফজাল, বিআইআইটির মহাপরিচালক ও আইআইআইটির কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এম. আবদুল আজিজ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে কী আছে বাজেটে?

পেনশন বাদ দিলে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ৮১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা।  নতুন অর্থ বছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর চলমান বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী ও ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন কর্মসূচি যুক্ত করার কথা জানিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা—সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরমধ্যে পেনশন বাবদ থাকছে ৩৫ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। ফলে পেনশন ছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ৮১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা। তবে আগামী অর্থবছরের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বরাদ্দ থেকে সঞ্চয়পত্রের সুদে সরকার যে প্রিমিয়াম দেয়, সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ প্রকাশিত সামাজিক নিরাপত্তা বাজেট প্রতিবেদনে শ্রমবাজারের উন্নীতিকরণ, সামাজিক ইনস্যুরেন্স, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট, কারিগরি শিক্ষা সহায়াতার বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে বয়স্কভাতার সুবিধাভোগী ৯৯ হাজার জন বাড়ানো হবে। বিধবা ও স্বামীনিগৃহীতা মহিলা সুবিধাভোগী বাড়ানো হবে এক লাখ ২৫ হাজার জন। প্রতিবন্ধী ভাতা ও প্রতিবন্ধী শিক্ষা বৃত্তির সুবিধাভোগী বাড়ানো হবে এক লাখ ৯৭ হাজার জন। অনগ্রসর জনগোষ্ঠী খাতে সুবিধাভোগী বাড়ানো হবে ৯৪ হাজার জন। প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের সুবিধাভোগী বাড়বে ২ লাখ। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী বাড়বে এক লাখ ১৬ হাজার জন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির সুবিধাভোগী বাড়বে দুই লাখ জন। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপবৃত্তির সুবিধাভোগী বাড়বে ৯ লাখ ৯০ হাজার জন। এ ছাড়া সরকার এখনকার তুলনায় ১১ লাখ ৪৭ হাজার বেশি ব্যক্তিকে ওএমএস সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ৩ লাখ ৩৭ হাজার জনকে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। আর আগামী অর্থবছরে ৫০ হাজার বেশি মানুষ পেনশন সুবিধা পাবেন। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সঠিক ব্যক্তি যাতে উপকারভোগী হিসেবে নির্বাচিত হন সে লক্ষ্যে ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি (ডিএসআর)’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ব্যাপ্তি এবং গুরুত্ব বিবেচনায় আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করছি। এ ক্ষেত্রে পেনশন ব্যতীত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ৯১ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা।” ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে বেশ কিছু ভাতার হারও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বয়স্ক ভাতার মাসিক হার ৬০০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকায়, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের মাসিক ভাতা ৫৫০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকায়, প্রতিবন্ধীদের মাসিক ভাতা ৮৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকায় এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রদত্ত মাসিক ভাতার হার ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য মাসিক ভাতার হার ৬৫০ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। অর্থ উপদেষ্টা বাজেট বক্তৃতায় বলেন, “দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক বৈষম্য হ্রাস এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবারের বাজেটে সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং মাথাপিছু বরাদ্দ উভয়ই বৃদ্ধি করার দিকে নজর দিয়েছি।” ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। যা চলতি (২৪-২৫ অর্থবছর) বাজেটের চেয়ে ৭ হাজার কোটি টাকা কম। এটি দেশের ৫৪ তম বাজেট এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেট। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির উপকারভোগী ও ভাতার পরিমাণ নিয়ে মন্তব্য না করে এই কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও সঠিক ব্যক্তি নির্বাচনের দিকে বেশি নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য সায়মা হক বিদিশা। তিনি বলেন, “তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের ক্ষেত্রে মিস টার্গেটিং যেন না হয়। সুবিধাভোগী নির্বাচনে ক্রাইটেরিয়াগুলো হালনাগাদ করা দরকার। তালিকাটাও কিন্তু হালনাগাদ করা দরকার। পাশাপাশি শহুরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য যেন একটা বরাদ্দা রাখা হয়। সেই বরাদ্দটি হতে হবে তাদের কর্মসংস্থানকে কেন্দ্র করে।”

  • 0
  • 0
© 2025 Dhumketu . All Rights Reserved. || Created by FixiFite WEB SOLUTIONS.